২০২০ সাল, কি ঘটেছে ,ঘটছে ,আর কি ঘটতে পারে

২০২০ সাল, কি ঘটেছে ,ঘটছে আর কি  ঘটতে পারে

 ২০২০ নিয়ে অনেকের মনে অনেক ধারণা ছিল। কি ঘটবে এই বছর। বিজ্ঞানীরাও দিয়েছিল বিপদের পূর্বাভাস। নিচে তার কিছু চিত্র তুলে ধরা হলো-


অস্ট্রেলিয়ার ছয়টা রাজ্য আগুনে পুড়ে ছাই, যার আয়তন ১৭.৯ মিলিয়ন একর !
তিন হাজারেরও বেশী বাড়ী বিলীন, প্রায় অর্ধ বিলিয়ন প্রাণী আগুনে পুড়ে মরেছে !
হাজার হাজার মাইল পুড়ে গেছে পৃথিবীর ফুসফুস অ্যামাজন বনের। এ যেন এক মহাপ্রলয় ।  আকাশ থেকে প্লেনের মাধ্যমে পানি বর্ষণ করে ও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি এই দাবানল।

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা। বন্যায় ভেসে যায় ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী। বন্যায় ও ভূমিধ্বসে মারা যায় ৬৬ জন আর ভিটেমাটি হারিয়েছেন পৌনে দুই লাখ মানুষ। বন্যায় আক্রান্ত হয় অন্তত তিন কোটি মানুষ। গত এক শতকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে এবছর। এছাড়া মাদাগাস্কারে ৬০০০০ মানুষ গৃহহীন, সাত শহর ভেসে যায় ভয়াবহ বন্যায় । জরুরি অবস্থা  ঘোষণা করে সরকার ।

 জানুয়ারীর ১১ তারিখ সকালে ঘুম থেকে উঠে দিনের শুরুতেই পোর্ট রিকো মুখোমুখি হয় ভয়াবহ ভুমিকম্পের । রিখটার স্কেলে ৬.৪ মাত্রার ভুমিকম্প এক মুহূর্তেই মাটিতে মিশিয়ে দেয় শত শত বিল্ডিং । ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ফলে অন্ধকারে দিন কাটায়  ১৫ লক্ষ বাসিন্দা। ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় ঘরের বাইরে রাত কাটায় মানুষ । এছাড়াও রিখটার স্কেলে ৬.৮ মাত্রার ভুমিকম্পের মুখোমুখি হয় তুরস্ক ।

ফিলিপাইনের তাল আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এতটাই ভয়াবহ ছিল যা অতীতের সব ভয়াবহতা ছাড়িয়ে গেছে । ধাতব ধোঁয়ার আচ্ছন্ন আকাশে ভয়ানক এক আঁধার আর অচল হয়ে পড়ে জনজীবন । তাল ফিলিপাইনের দ্বিতীয় সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। একটি লেকের মাঝখানে দ্বীপের মতো জায়গায় অবস্থিত আগ্নেয়গিরিটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট আগ্নেয়গিরি এবং গত সাড়ে চারশ বছরে এটি ৩৪ বার অগ্ন্যুৎপাত করেছে। এছাড়াও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত দেখা দেয় জাপান এবং মেক্সিকোতে । বিজ্ঞানীরা আতঙ্কিত আশংকা ছিল ভয়ানক ভলকানিক সুনামীর ।

শক্তিশালী সাইক্লোন গ্লোরিয়াতে বিধ্বস্ত স্পেন।তীব্র গতির বাতাস, ভারী বৃষ্টি, তুষারপাত আর সমুদ্র থেকে ভেসে আসা বিশাল ঢেউ একটা শহর লন্ডভন্ড করে দেয় । শিমুল তুলার মত সমুদ্র থেকে আসা ফোমে পুরো শহর অচল । স্পেনের মানুষ এমনটা দেখেনি আগে কখনও । ঘটনাটি ঘটেছে স্পেনের শহর টোসা ডে এলাকায়।



দাবানলের রেশ কাটার পরই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ল  অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলে। অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলে প্রায় ২০০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ড্যামিয়ান। ভয়াবহ ধুলি ঝড়ে অস্ট্রেলিয়ায় দিনের আলো হারিয়ে যেন রাত নেমে আসে । ১৬০০ মানুষ আহত, ৩৫ জনের মৃত্যু আর হাজার হাজার বাড়ীঘর ধ্বসে যায় নিমিষেই ।  

গত কয়েক দশকে এত ভয়াবহ পঙ্গপালের আক্রমণে পড়েনি পূর্ব আফ্রিকা । মিলিয়ন বিলিয়ন পঙ্গপালে ঢাকা পড়েছিল কেনিয়া সোমালিয়া আর ইথিউপিয়ার আকাশ । যা একদিনে হাজার হাজার মানুষের খাবারের উৎস ফসল ধ্বংসের কারণ । এক ঝাঁক পঙ্গপাল একদিনে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের খাবার খেয়ে ফেলতে সক্ষম। এছাড়াও পাকিস্তান এবং ভারতের পৌঁছে গেছে পঙ্গপালের দল। জাতি সংঘ আশংকা করছে ভয়াবহ খাদ্যাভাবের ।

আর জানুয়ারীর শেষে সারা বিশ্ব আতঙ্কিত চিনের ‘করোনা’ ভাইরাসে ।  যা আজ মহামারী আকার ধারন করেছে। ১৫৭ টির ও বেশি দেশে সনাক্ত হয়েছে করোনা রোগী। আক্রান্তের সংখ্যা ৬  লক্ষ ছাড়িয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩১ হাজার । যেখানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে ইতালি। দেশটিতে  একদিনে সর্বোচ্চ ৯১৯ মৃত্যুসহ মোট মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি।

নাসা জানিয়েছে, ৪ কিলোমিটার আয়তনের ,13,500 ফুট ব্যাস বিশিষ্ট 1998 OR2  নামক একটি গ্রহাণু প্রতি ঘণ্টায় ৩১ হাজার ৩২০ কিমি গতিতে পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে। এই গতিতে এগিয়ে আসতে থাকলে এ বছরের ২৯ এপ্রিল পৃথিবীর কাছে চলে আসবে ।   এক্ষেত্রে গ্রহাণুটির পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।


এছাড়াও ২০২০  সালের এই পর্যন্ত আরো অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে গেছে সারা বিশ্বে। সবগুলোএখানে তুলে ধরা সম্ভব হয়নিসম্ভব হয়নি।
আর কি কি ঘটতে পারে তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তা'আলা জানেন।
আল্লাহ আমাদের সকল ধরনের দুর্যোগ থেকে হেফাজত করুন
আমিন

Comments